বাসে জার্নি করার সময় বমি হয় কেন

বাসে জার্নি করার সময় বমি হয় কেন? বমি থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়

বাসে জার্নি করার সময় বমি হয় কেনঃ বমি ব্যাপারটা হচ্ছে শরীরের একটা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। পেট যখন বুঝতে পারে সেখানে হজমের অনুপযোগী কোন বস্তু পাঠানো হয়েছে, তখন তা মস্তিষ্কে সিগন্যাল পাঠায় এবং মস্তিষ্ক তখন পাকস্থলী পরিষ্কার করার জন্য আপনাকে বমি করতে বাধ্য করে। তবে অনেকের গাড়িতে / বাসে জার্নি করার সময় বমি হয় (vomiting problem in bus in Bangla)। প্রতিকার না জানার কারণে বছরের পর বছর ধরে এই সমস্যায় ভুগে আসেছেন। 

বাসে ভ্রমনের সময় বমি হলে নিজের জন্য কষ্টের পাশাপাশি পাশের যাত্রীও বেশ ঝামেলায় পরে যান, যা নিতান্তই লজ্জাজনক। তাই আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় বাসে বমি হওয়ার কারণ এবং তার প্রতিকার।

বাসে জার্নি করার সময় বমি

 

বাসে জার্নি করার সময় বমি হয় কেন?

১) গাড়ি চড়ার কারনে বমি হওয়া পুরোটাই মানসিক সমস্যা। আমাদের মস্তিষ্কে গন্ধ পেলে হরমোন ক্ষরনের সিগন্যাল পাঠায়। গাড়ির ধোঁয়ার কারনে আতংকগ্রস্থ মানুষের ব্রেইন চিন্তা করে পেটে কিছু রয়েছে এবং আইডেন্টিফাই না করতে পেরে বিভিন্ন হরমোন ক্ষরণ শুরু করে দেয়। অর্থাৎ বাজে গন্ধের কারণে বমি হতে পারে।

২) আরেকটা কারণ motion sickness. আমাদের অনেকেরই গতির ভারসাম্যহীনতার কারণে এরকম সমস্যা হয়। কারণ, বাসে জার্নি করলে গতির কমবেশি হয়। গতি জড়তা এবং স্থিতি জড়তার কারণে মস্তিষ্কে বারবার ভিন্নধর্মী সিগন্যাল পৌছায়।

অন্যদিকে, গাড়ি চলা শুরু করলে আমাদের অন্ত:কর্ণ মস্তিষ্কে গতিশীল অবস্থার সিগন্যাল পাঠায়। কিন্তু আমাদের চোখ বলে আরে না, আমি তো স্থিতিশীল, আমার আশেপাশের সবাই, সবকিছুই তো স্থির। এমন দুইরকম সিগন্যালের কারণে মোশন সিকনেস দেখা দেয়।

যাত্রা পথে বমি থেকে মুক্তির উপায়

১) বাসের সামনে বসুন। পেছনের দিকে বসলে গাড়ি বেশী গতিতে চলছে বলে মনে হয়।

২) বাস জার্নি করলে জানালার পাশে বসুন। জানালা অবশ্যই খোলা রাখুন, বাইরে থেকে বাতাস প্রবেশ করলে গন্ধ লাগবেনা।

বাসের ভিতরে তাকিয়ে থাকবেন না। বাইরের দিকে তাকিয়ে থাকুন, তাহলে মস্তিষ্কের পাশাপাশি চোখও গতিশীল অবস্থা বুঝতে পারবে।

৪) পাশের কোনো যাত্রীকে বমি করতে দেখলেও যদি বমি আসে, তাই কেউ বমি করলে সেদিক থেকে মনোযোগ সরিয়ে নিন।

৫) গাড়িতে বা বাসে উঠলে আমার বমি হয়, এরকম নেগেটিভ চিন্তা মাথা থেকে ঝেরে ফেলার চেষ্টা করুন। মনোযোগ সরাতে অন্য কোনো চিন্তা করতে পারেন, কিংবা অডিও শুনতে পারেন।

৬) হালকা ভাবে চোখ বন্ধ করে রাখুন। ভ্রমণের আগের রাতে ভালোভাবে ঘুমানোর চেষ্টা করুন।

৭) গাড়িতে যাত্রা করার আগে পেট খালি কিংবা ভরপেট খাবার গ্রহণ করবেননা। যাত্রাকালীন সময়ে কোনো খাবার না খাওয়াই ভালো, বিশেষ করে এসিডিটি হতে পারে এমন কিছু কোনোভাবেই গ্রহণ করবেননা।

৮) বাসে চলন্ত অবস্থায় বই পড়া কিংবা মোবাইল ব্রাউজ করা থেকে বিরত থাকুন। এসবের কারনে মোশন সিকনেস হতে পারে।

৯) আদা বমি প্রতিরোধে খুবই কার্যকরী। বাসে জার্নি করলে অনেকসময় হকারদের কাছে শুকনো আদা পাওয়া যায়, চাইলে নিজ থেকেও নিয়ে নিতে পারেন।

লম্বা জার্নির সময় যাত্রা বিরতিতে হাতমুখ ধুয়ে নিন, সেই সাথে এককাপ আদা চা খেতে পারেন।

১০) এসিডিটির সমস্যা থেকে বমি হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে সাথে পুদিনাপাতা রাখতে পারেন।

এছাড়া চুইংগাম, লবঙ্গ, লেবু পাতা বমি থেকে মুক্তি দিতে পারে। উপরের এই টিপসগুলো মেনে চললেই বাসে জার্নি করার সময় বমি হওয়া থেকে মুক্তি পেতে পারেন।

গাড়িতে বমি হওয়া থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বিভিন্ন vomiting tablet পাওয়া যায় (যেমন, ‍Avomine, Vertina Plus, Motifast etc.) এগুলো খেয়ে নিতে পারেন। এরপরেও যদি বাস জার্নির সময় বমি করার সমস্যা হয়, তবে আপনার ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিৎ।

2 thoughts on “বাসে জার্নি করার সময় বমি হয় কেন? বমি থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়”

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Social Share Buttons and Icons powered by Ultimatelysocial