কিভাবে মোবাইল দিয়ে টাকা ইনকাম করবেন?

আজকের লেখাটি কিভাবে মোবাইল দিয়ে টাকা ইনকাম করার উপায় সম্পর্কে বিশদ আলোচনার আর্টিকেল। এছাড়া এই লেখা থাকছে- মোবাইলে টাকা আয় করার উপায়, মোবাইল দিয়ে টাকা ইনকাম করার সহজ উপায় গুলো কি ?

ইন্টারনেট ব্যবহার করে লাখো মানুষ তাদের জীবিকা নির্বাহ করছে। একটা সময় এই ইন্টারনেট ব্যবহার করা হতো কম্পিউটারের। কিন্তু এখন এটা মোবাইল ফোনেও ব্যবহার করা সম্ভব। মোবাইল ফোন হয়ে উঠেছে মিনি কম্পিউটার। মোবাইল দিয়ে এখন আপনি ঘরে বসে টাকা উপার্জন করতে পারবেন। বিভিন্ন ওয়েবসাইটে মোবাইল দিয়ে টাকা উপার্জন করার বিভিন্ন উপায় বলে দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু যেগুলো বেশিরভাগই অনির্ভরযোগ্য, ভিত্তিহীন এবং অনিরাপদ। এর ফলে সেই অনুযায়ী কাজ করলে প্রতারিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে এবং সময় নষ্ট হয়। তারা বিভিন্ন অফার দিয়ে থাকে, বলে থাকে দিন এক থেকে তিন হাজার টাকা ইনকাম করা সম্ভব। জানি না কতজন সফল হয়েছে এভাবে। কিন্তু অসফল মানুষদের তালিকাটাই বড়।

আজ আমি আপনাদেরকে নির্ভরযোগ্য এবং নিরাপদ ও কার্যকরী কয়েকটি উপায় বলবো যার মাধ্যমে আপনি “মোবাইল দিয়ে টাকা উপার্জন” করতে পারবেন। মোবাইল দিয়ে টাকা উপার্জন করা এতটা সহজ নয় যতটা প্রতারকেরা বলে থাকে। এটার জন্য প্রয়োজন ধৈর্য ও সময়। রাতারাতি যে আপনি টাকা ইনকাম করতে পারবেন সেই নিশ্চয়তা আমরা দিচ্ছি না। আসুন দেখি কিভাবে মোবাইলে টাকা ইনকাম করা যায়।

১. OLX বা পুরাতন জিনিসপত্র বিক্রয়ের ওয়েবসাইট

মানুষ অর্থের প্রয়োজনে নিজের পুরাতন জিনিস বিক্রি করে। আবার অনেকে অর্থ সাশ্রয় করতে পুরাতন জিনিস ক্রয় করে। আমি বলছি না আপনি আপনার ঘরের পুরাতন জিনিস বিক্রি করুন। আমি আপনাকে একটু সম্ভাবনাময় ব্যবসার উজ্জ্বল দিক সম্পর্কে অবহিত করছি। এই ব্যবসাটা হচ্ছে জাহাজের পুরাতন মালামাল বিক্রয়।

বাংলাদেশের বন্দর নগরী চট্টগ্রামে প্রতিবছর শত শত পুরাতন জাহাজ কাটা হয়। বিভিন্ন বিদেশি পুরাতন জাহাজ বাংলাদেশের ব্যবসায়ীগণ ক্রয় করে। সেগুলো কেটে টুকরো টুকরো করা হয়। ইস্পাত গুলো কেজি দরে বিক্রি করে দেওয়া হয়। এ জাহাজের ভেতর থাকে মূল্যবান আসবাবপত্র, শো পিস। যেমন ধরুন পিতলের ঘড়ি, কম্পাস। দামি রেডিও, টেলিভিশন, কম্পিউটার, ফ্রিজ। এছাড়াও এর ভেতরে থাকে বিভিন্ন ধরনের লাইট, ঝাড়বাতি।

আরো পড়ুন: ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড এবং ভিসার মধ্যে পার্থক্য কী?

এসব জিনিস চট্টগ্রামে অহরহ বিক্রি হয়। চাইলে আপনি এই জিনিসগুলো সংগ্রহ করে পুরাতন মালামাল বিক্রির ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিতে পারেন। কেননা শহরের অনেক সৌখিন মানুষ আছে যারা এ ধরনের জিনিসের কদর বোঝে। আশা করা যায় আপনি এটাতে সফল হবেন।

২. ফেসবুক গ্রুপ

আমাদের অনেকেরই ফেসবুকে গ্রুপ রয়েছে। যদি কোনো গ্রুপ নাও থাকে তবুও আমরা কোনো না কোনো বৃহৎ গ্রুপের সাথে সংযুক্ত। আগে লক্ষ লক্ষ গ্রুপ মেম্বার হওয়া সত্বেও গ্রুপ দ্বারা কোনো অর্থ উপার্জন করা সম্ভব ছিল না। কিন্তু ফেসবুকে এখন নতুন নিয়ম এসেছে। এর ফলে আপনি গ্রুপ পরিচালনা করে অর্থ উপার্জন করতে পারবেন।

বেশি সংখ্যক গ্রুপ নাম্বার হওয়ার ফলে আপনার আরেকটি দিকে সুবিধা আছে। আর সেটা হচ্ছে খুব সহজেই আপনি গ্রুপ পোষ্টের মাধ্যমে আপনার প্রোডাক্টের বিজ্ঞাপন দিতে পারবেন বিনামূল্যে। তবে এটার মাধ্যমে যে আপনি অনেক টাকা ইনকাম করতে পারবেন এমনটা নয়।

৩. ইউটিউব বা ফেসবুক ভিডিও তৈরি

ইউটিউব ভিডিও শেয়ারিং এর জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি মাধ্যম। ইউটিউব দিয়ে মানুষ তাদের জীবিকা নির্বাহ করছে। চাইলে আপনিও একজন ভালো ইউটিউবার হয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন। ইউটিউবে যাচ্ছে তাই ভিডিও বানালেই হয় না। এমন ধরনের ভিডিও তৈরি করতে হবে যেটা মানুষজন দেখবে। তবে এমন কোনো ভিডিও তৈরি করা উচিত নয় যার জন্য নৈতিকভাবে নিজেকে লজ্জিত হতে হয়।

১ হাজার সাবস্ক্রাইবার হলে আপনি মনিটাইজেশন অর্থাৎ বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য আবেদন করতে পারেন। এরপর আপনার ভিডিও কত সময় দেখেছে তার ওপর নির্ভর করে টাকা প্রদান করবে ইউটিউব কোম্পানি। ইউটিউব এর ক্ষেত্রে সাধারণত ৮ মিনিটের ভিডিও পোস্ট করতে হয়।
তবে একজন ভালো ইউটিউবার হওয়া এত সহজ নয়।

তদ্রুপ ফেসবুকেও ভিডিও আপলোড করে আপনি টাকা আয় করতে পারবেন। ফেসবুকের ভিডিও গুলো মিনিমাম তিন মিনিট এর হতে হবে।

৪. instagram

instagram এ মানুষজন টাকা আয় করছে। তবে এখানে আয় করার পদ্ধতিটা একটু ভিন্ন। আপনি যদি instagram এ অনেক জনপ্রিয় হন এবং আপনার অনেক সংখ্যক ফলোয়ার থাকে তাহলে আপনি টাকা আয় করার সুযোগ পেতে পারেন। বিভিন্ন ধরনের কোম্পানি তাদের পণ্যের প্রমোশনের জন্য আপনাকে টাকা দেবে। আপনি সেই সকল পণ্য প্রমোশন করে কোম্পানির নিকট থেকে টাকা আয় করতে পারেন।

৫. ব্লগিং বা ওয়েবসাইট

ব্লগিং বা ওয়েবসাইট তৈরি করে টাকা ইনকাম করা একটি জনপ্রিয় পেশা। বহু মানুষ এভাবে তাদের জীবিকা নির্বাহ করছে। চাইলে আপনিও ওয়েবসাইট নির্মাণ শিখে সেখানে আর্টিকেল লিখে টাকা আয় করতে পারেন। তবে এটা কোনো সহজ কাজ নয়। আপনার ওয়েবসাইটে নির্দিষ্ট পরিমাণ ভিজিটর আসলে আপনি গুগলের কাছে বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য আবেদন করতে পারেন। যাকে বলা হয় এডসেন্স। এরপর আপনার যত সংখ্যক ভিজিটর হবে সেই অনুপাতে নির্দিষ্ট হারে একটি অ্যামাউন্ট আপনার ব্যাংক একাউন্টে জমা হবে।

শেষ কথা:

এখানে যে সকল পন্থায় মোবাইলে টাকা উপার্জন করার কথা বলা হয়েছে সেগুলো সবই বাস্তবসম্মত। কিন্তু সেগুলো এতটা সহজ নয়। এগুলো খুবই সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। যার জন্য প্রয়োজন নিজের মেধা ও দক্ষতা। কিন্তু আজকাল বিভিন্ন ধরনের অ্যাপ বাজারে এসেছে। যেখানে টাকা বিনিয়োগ করলে কয়েক ঘন্টার মধ্যে মুনাফা আসতে শুরু করে। এর প্রলোভনে পড়ে বহু মানুষ নিজের জমি বাড়ি বিক্রি করে টাকা ইনভেস্ট করে।

এরপর আচমকা সেই অ্যাপস কোম্পানি বেমালুম গায়েব হয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে জনগণের কোটি কোটি টাকা নিয়ে লাপাতা হয়ে যায়। আপনাদেরকে অনুরোধ আপনারা এই ধরনের প্রলোভনযুক্ত অ্যাপস দ্বারা কখনো টাকা ইনকামের সহজপন্থা অবলম্বন করবেন না। মোবাইলে অর্থ উপার্জন যদি এত সহজ হতো তাহলে কোনো মোবাইল ব্যবহারকারী গরিব থাকতো না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *