হিজড়া সন্তান কেন হয়

হিজড়া সন্তান কেন হয়? তৃতীয় লিঙ্গ হওয়ার বৈজ্ঞানিক কারণ ও ইসলামিক ব্যাখ্যা

হিজড়া সন্তান কেন হয়? হিজড়াদের তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তি হিসাবে বিবেচনা করা হয় যারা পুরুষ বা মহিলার প্রচলিত সংজ্ঞায় পড়ে না। যদিও বেশিরভাগ হিজড়ারা কখনই পুরুষ বা স্ত্রীদের প্রতি যৌন দৃষ্টিভঙ্গি অনুভব করে না, তারা নিজেকে তৃতীয় লিঙ্গ হিসাবে চিহ্নিত করে।

শারীরবৃত্তীয় দিক থেকে অস্পষ্ট (হারম্যাফ্রোডাইট), উভলিঙ্গ, কিংবা পুরুষ বা মহিলা যৌনাঙ্গ নিয়ে জন্মগ্রহণ করতে পারে। তবে তৃতীয় লিঙ্গ বা থার্ড জেন্ডার ও ট্রান্সজেন্ডার এর পার্থক্য না জানায় আমাদের সমাজের অনেকেই দুজনকে এক করে দেখেন, আদতে কিন্তু তা নয়। হরমোনাল সমস্যার কারনে কিংবা স্বেচ্ছায় জেন্ডার পরিবর্তনকারীকে ট্রান্সজেন্ডার বলে।

চলুন জেনে নেই, কেন হিজড়া সন্তানের জন্ম হয়, বিজ্ঞান কি বলছে, ইসলামে হিজড়া সন্তান হওয়ার কারণ হিসেবে কি বলছে।

হিজড়া সন্তান কেন হয়? বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা কি?

হিজড়া সন্তান কেন হয়
বৈজ্ঞানিকভাবে বলতে গেলে, ভ্রূণের বিকাশের সময় অস্বাভাবিক মাত্রার যৌন হরমোন হিজড়া জন্ম দেওয়ার প্রধান কারণ বলে মনে করা হয়।

অনেক সময় কোনও শিশু এমন যৌনাঙ্গ নিয়ে জন্মগ্রহণ করে যেগুলি পুরুষ বা মহিলা হিসাবে পরিষ্কারভাবে সংজ্ঞায়িত করা যায় না, এদের যৌনাঙ্গ অস্পষ্ট। বৈজ্ঞানিকভাবে এরা ambiguous genitals বা ইন্টারসেক্স অবস্থা (intersex state) হিসাবেও পরিচিত।

তবে বেশিরভাগ ব্যক্তি হলেন সিউডো-হার্মাফ্রোডাইটস অর্থাৎ তাদের অস্পষ্ট বাহ্যিক যৌনাঙ্গ থাকে এবং তাদের ডিম্বাশয় বা টেস্টিস কোনো একটি থাকে তবে উভয়ই হয় না। জেনেটিকভাবে সিউডো-হার্মাফ্রোডাইট বলতে পুরুষ বা মহিলা হিজড়া বলা হয়।

হিজড়াদের যৌনাঙ্গে কী ত্রুটি দেখা দেয়

লিঙ্গ, টেস্টিস বা ভগাঙ্কুরে সমস্যা দেখা দেয় কেন? যৌনাঙ্গে ত্রুটি বা অস্বাভাবিকতার প্রধান কারণটি মনে হয় জন্মের আগে ভ্রূণের অস্বাভাবিক যৌন হরমোন লেভেল, যার কারণে লিঙ্গ বিভেদকারী ক্রোমোজম গঠনে সমস্যা সৃষ্টি হয়।

XX প্যাটার্ন ডিম্বাণুর সমন্বয়ে কন্যা শিশু আর XY প্যাটার্ন থেকে সৃষ্ট হয় ছেলে শিশু। ভ্রূণের পূর্ণতার স্তর গুলোতে ক্রোমোজোম প্যাটার্নের প্রভাবে ছেলে শিশুর মধ্যে অণ্ডকোষ আর কন্যা শিশুর মধ্য ডিম্ব কোষ জন্ম নেয়।

অণ্ডকোষ থেকে নিঃসৃত হয় পুরুষ হরমোন এন্ড্রোজেন এবং ডিম্ব কোষ থেকে নিঃসৃত হয় এস্ট্রোজেন। ভ্রূণের বিকাশকালে নিষিক্তকরণ ও বিভাজনের ফলে কোনো অস্বাভাবিক প্যাটার্নের সৃষ্টি হলে XXY অথবা XYY সৃষ্টির ফলে বিভিন্ন গঠনের হিজড়া শিশুর জন্ম হয়।

অস্পষ্ট যৌনাঙ্গের শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ করার উপায়

একটি শিশু যখন অস্পষ্ট যৌনাঙ্গে জন্মগ্রহণ করে, তখন লিঙ্গ নির্ধারণের ক্ষেত্রে চিকিৎসা  পদ্ধতিতে ৩টি পরীক্ষা করা হয়। এই পরীক্ষাগুলিতে

  1. শারীরিক পরীক্ষা,
  2. ক্রোমোজোমগুলি বিশ্লেষণের জন্য একটি রক্ত ​​পরীক্ষা এবং
  3. হরমোনীয় লেভেল পরীক্ষা জড়িত

পরীক্ষাগুলির ফলাফল থেকে শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ করা যায়। কোনো সমস্যা থাকলে তা সংশোধন করার প্রক্রিয়াটি শল্য (সার্জারি) চিকিৎসা কিংবা কৃত্রিম হরমোন থেরাপি দেওয়া হয়, আবার প্রয়োজনে উভয় প্রক্রিয়াইতেই চিকিৎসা করা হয়।

ছেলে কিংবা মহিলার লিঙ্গ নির্ধারন কিভাবে ঘটে?

পুরুষ এবং স্ত্রী যৌনাঙ্গ ভ্রূণের একই টিস্যু থেকে বিকাশ ঘটে, তবে উচ্চ মাত্রার টেস্টোস্টেরন যৌনাঙ্গকে লিঙ্গ, স্ক্রোটাম এবং পেনাইল মূত্রনালীতে পরিণত করে শিশুকে পুরুষ করে তোলে।

টেস্টোস্টেরন কম মাত্রায় থাকলে বা টেস্টোস্টেরনের অনুপস্থিতিতে, ভগাঙ্কুর, লাবিয়া মাজোরা এবং যোনি ও মূত্রনালীগুলির জন্য পৃথক ছিদ্র বাচ্চাকে একটি মহিলা হিসাবে গড়ে তোলে।

পুরুষ যৌনাঙ্গে ত্রুটি

তৃতীয় লিঙ্গ হওয়ার বৈজ্ঞানিক কারণ

অস্পষ্ট যৌনাঙ্গ সমস্যা ঘটে থাকে টেস্টোস্টেরনের মধ্যবর্তী স্তরের নিঃসরণের জন্য, যেখানে পুরুষ শিশুরা ছোট লিঙ্গ এবং টেস্টিস নিয়ে জন্মগ্রহণ করে যা শুক্রাশয় পর্যন্ত উত্থিত হয় না। বংশগতভাবে মহিলা শিশুদের একটি লেবিয়ার সাথে প্রসারিত ক্লাইটোরিস থাকে যেটা অদৃশ্য হয়ে যায়।

সামগ্রিকভাবে, এই দুই ক্ষেত্রেই বাহ্যিক যৌনাঙ্গ একই থাকে। এই সমস্যার সমাধান সাধারণত টেস্টোস্টেরন এর মাধ্যমে করা হয় যেখানে যৌন বিকাশ এবং উর্বরতা বৃদ্ধি করা হয়।

স্ত্রী যৌনাঙ্গে ত্রুটি

পুরুষ হরমোনের অতিরিক্ত নিঃসরণের জন্য মহিলা যৌনাঙ্গে যে সমস্যা হয় তার প্রকাশ ঘটে ভিতরের অঙ্গগুলোতে, কিন্তু একটি প্রসারিত ক্লাইটোরিস ছোট লিঙ্গের ন্যায় ধারণ করে। যদি এই বাচ্চাটিকে একটি মহিলা শিশুতে রূপান্তরিত করতে চাওয়া হয় তাহলে একটি সার্জারি করতে হবে বাহ্যিক মহিলা যৌনাঙ্গের বিকাশের জন্য।

মহিলা হিজড়ার চিকিৎসা তিনটি কাজের সাথে জড়িত, যথা:

  • ক্লাইটোরিসটির আকার ছোট করা,
  • যোনি ঠিক করা এবং
  • মূত্রনালী বিকশিত করা

হিজড়া সন্তান হওয়ার কারণ হিসেবে ইসলাম কি বলছে?

হিজড়া হওয়ার পিছনে ইসলামিক ব্যাখ্যা

হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেছেন: হিজড়ারা জীনদের সন্তান। কোনো এক ব্যক্তি আব্বাস (রাঃ) কে প্রশ্ন করেছিলেন এটা কীভাবে হতে পারে? জবাবে তিনি বলেছিলেন যে, “আল্লাহ্ ও রাসুল (সাঃ) নিষেধ করেছেন যে মানুষ যেনো তার স্ত্রীর মাসিক ঋতুস্রাব চলাকালে যৌন সংগম না করে”, সুতরাং কোনো মহিলার সঙ্গে তার ঋতুস্রাব হলে শয়তান তার আগে থাকে ও সেই শয়তান দ্বারা ওই মহিলা গর্ববতী হয় এবং হিজড়া সন্তান প্রসব করে। (মানুষ ও জীন এর যৌথ মিলনজাত সন্তানকে ইসলামে বলা হয় “খুন্নাস”)। তথ্য: সূরা বানী ইস্রাইল- আর রাহমান -৫৪, ইবনে আবি হাতিম, হাকিম তিরমিজি।

আরেক হাদিসে হিজরা জন্মের হেকমত উল্লেখপূর্বক আলোচনা এভাবে এসেছে যে, হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) কে একবার জিজ্ঞাসা করা হল,হিজরা কেন জন্ম নেয়? তদুত্তরে ইবনে আব্বাস বললেন, স্ত্রীর মাসিক চলাকালে যখন স্বামী তার সাথে সহবাস করে, তখন শয়তান ঐ যৌনমিলনে আগে আগে থেকে উক্ত ব্যক্তির সাথে যৌনকার্যে শরিক হয়,এবং শয়তানের বীর্য ঐ মহিলার গর্ভে গিয়ে পৌছে,যার ফলে হিজরা সন্তান জন্ম গ্রহণ করে। (ত্বরতুসী-কিতাবু তাহরীমিল ফাওয়াহিশ)

বৈজ্ঞানিকভাবেও দেখা যাচ্ছে হিজড়া সন্তানের সেক্স ক্রোমোজোম প্যাটার্ন XXY, XYY. যেখানে মায়ের থেকে পাওয়া X ও বাবার থেকে পাওয়া Y বা X ক্রোমোজম মিলে মহিলার XX এবং পুরুষের XY সেক্স ক্রোমোজম সৃষ্টি হয়। তাহলে এই অতিরিক্ত Y ক্রোমোজম কার? এই প্রশ্নে তৃতীয় কোনো জ্বীন কিংবা শয়তানকে দায়ী করলে উত্তর সহজেই মিলে যায়।

সুতরাং, হিজড়া সন্তান কেন হয় সেবিষয়ে বৈজ্ঞানিক ও ইসলামিক ব্যাখ্যা সম্পর্কে আমরা জানলাম। বিজ্ঞান আমাদের কিছু প্রতিকার দিলেও প্রতিরোধ সম্পর্কে জানাতে পারেনি। তবে ইসলাম সুস্পষ্টভাবে প্রতিরোধ সম্পর্কে বর্ণনা করেছে।

সুস্থ্য সবল সন্তান পেতে ইসলামে নিষেধ করা সময়ে (মহিলার মাসিক চলাকালীন) সঙ্গম থেকে বিরত থাকুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Social Share Buttons and Icons powered by Ultimatelysocial